সেই মার্কস-বাকুনিনদেরও আগের থেকে রাজনৈতিক আন্দোলনের একটা প্রাথমিক আওয়াজ হলো এই রাষ্ট্র নিপীড়ক, ত্রাসনির্ভর– সুতরাং এই রাষ্ট্র ভেঙে ফেলতে হবে। কিন্তু রাষ্ট্রকে ভেঙে ফেলব কীভাবে? রাষ্ট্র কি চেয়ারটেবিলের মতো ভঙ্গুর পদার্থ? আরও প্রশ্ন এই যে: পুঁজি-প্রতাপ-বলপ্রয়োগনির্ভর এখনকার রাষ্ট্রের বিকল্প হিসেবে কী ধরনের রাষ্ট্রীয়-সামাজিক বিন্যাস গড়ে তুলব আমরা? কীভাবেই বা গড়ে তুলব? (more…)
ইতিহাসের লক্ষণ হচ্ছে পরিপ্রেক্ষিত বিচার। তার শুরু বর্তমান থেকেই। বর্তমানে উত্থাপিত প্রশ্নের মীমাংসার সূত্র ধরেই। বর্তমান থেকে অতীতে যাওয়া তখনই, যখন অতীত সম্পর্ক —অতীত পরিপ্রেক্ষিত,বর্তমান সম্পর্ক —বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতকে ব্যাখ্যা করে। ধারাবাহিকতা নির্মাণ করে। নির্দেশ করে ভবিষ্যতের। তাই ইতিহাস হল পরিপ্রেক্ষিতায়ন। (more…)
ভূমিকা: এই প্রবন্ধের লেখক, জন বেভেরলি রবিনসন, সম্পর্কে বলতে গেলে কিছুই জানি না; দেড় পৃষ্ঠার এই প্রবন্ধ ছাড়া তাঁর আর কিছু পড়া হয় নাই। ডিজিটাল দুনিয়ার কল্যাণে আপাতত যদ্দুর জানতে পেরেছি তা হলো রবিনসনের জন্ম ১৮৫৩ সালে এবং মারা যান ১৯২৩ সালে। সাথে এটাও জানতে পেরেছি মতাদর্শের দিক থেকে লেখক একজন individualist anarchist; তাঁর পরিচয় হিসেবে আরও বলা আছে যে তিনি একজন প্রকাশক, অনুবাদক এবং আর্কিটেক্টও বটে। স্বাধীনতা কী (What is freedom?) এই প্রশ্নের চমকপ্রদ ও সহজ-সরল আলাপই এই প্রবন্ধ অনুবাদে আগ্রহী করে তোলে। লেখক প্রবন্ধটা লিখেছিলেন ১৮৯৪ সালে। (more…)
ইস্ক্রা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা ভর্তি হই একটা চুক্তির মাধ্যমে। এই চুক্তি অনুযায়ী যে শিক্ষার্থী তারা ভর্তি করে তাকে যথেষ্ট যাচাই-বাছাই করে নেয়া হয়। আর স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষের শর্ত থাকে যে তারা শিক্ষার্থীকে ‘শেখাবেন’। এমন কোনো শর্ত থাকে না যে তারা ‘কম্পিটিশন’ তৈরি করবেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে ডিসক্রিমিনেশন তৈরি করবেন। (more…)
অন্ধ-বিশ্বাস আর অন্ধ-অবিশ্বাসের চক্করে পড়েছে বাংলাদেশ। নতুন করে। এর কারণ মতাদর্শের মোহ। মুক্তচিন্তা, মুক্ত-পর্যালোচনা এবং মুক্তপ্রকাশের পথে বিপুল বিক্রমে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল, নানা প্রকার ধর্ম-রাজনৈতিক গোষ্ঠী, এবং তাদের প্রতি অন্ধ আনুগত্যপ্রবণ নানান মহল। সব গোষ্ঠীই নিজের নিজের একটা করে অভ্রান্ত মতাদর্শ দাঁড় করিয়ে বাকি সবাইকে আদর্শ-বহির্ভূত জ্ঞান করছে – রাষ্ট্রের নামে, ধর্মের নামে, মুক্তিযুদ্ধের নামে, নানাবিধ জাতীয়তাবাদের নামে। এমনকি আমাদের বহু সাধের, অনেক স্বপ্নের প্রজন্ম-চত্ত্বরও আস্তে-ধীরে আটকে পড়েছে মতাদর্শের জলাবদ্ধতায়। তার মতাদর্শ হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সম্প্রতি এলোমেলো করে লিখে রাখা কিছু কথা, চিন্তার কিছু টুকরা এক জায়গায় জড়ো করে রাখা দরকার বলে মনে হচ্ছে। (more…)
ভূমিকা
জর্জ অরওয়েলকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার মতো কিছু নাই; এনিমেল ফার্ম, ১৯৮৪ উপন্যাসদ্বয়ের বদৌলতে তার পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা দুনিয়া ব্যাপী। যে প্রবন্ধ নিয়ে এই আলোচনা সেটাও তাঁর উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি। বরাবরের মতো অরওয়েল এখানেও বিশেষ একধরণের প্রবণতার কথা বলেছেন। অরওয়েলের এই ‘প্রবণতা’ সবাই ধরতে পারেন না বলে মুশকিলে পড়ে যাওয়ারও একটা সম্ভাবনা থেকে যায়। যেমন, উপরোক্ত দুই উপন্যাসে তিনি রাষ্ট্রের যে কর্তৃত্বপরায়নতার কথা বলেছেন সেটা অনেকেই ধরতে পারেন না। তাই দেখা যায়, স্ট্যালিন আমলের কর্তৃত্বপরায়নতার সমালোচনাকে অনেকে সমাজতন্ত্রের সমালোচনা হিসেবে নিয়ে নেন। আমাদের দেশে একদল যেমন অরওয়েলকে সমাজতন্ত্র বিরোধী পুঁজিবাদী সমর্থক প্রমাণ করতে প্রাণপণ চেষ্টা করেন, তেমনি বামঘরণার রাজনীতির সাথে জড়িত অনেকের কাছে অরওয়েল প্রায় অচ্যুত। (more…)
‘নৈরাজ্যবাদ’কি? ‘নৈরাজ্য’কি? কারা ‘নৈরাজ্যবাদী’? নৈরাজ্যবাদ হল সবথেকে ভালোভাবে বাঁচার কৌশল সম্পর্কিত একটা ধারণা। নৈরাজ্য একটা জীবনযাপন পদ্ধতি। সরকার বা রাষ্ট্র হল অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষতিকর সংগঠন— এই ধারণাই নৈরাজ্যবাদ। নৈরাজ্য হল সরকার বিহীন সমাজব্যবস্থা। নৈরাজ্যবাদীরা হলেন নৈরাজ্যবাদে বিশ্বাসী মানুষ যারা আমাদের পূর্বপ্রজন্মের মতোই নৈরাজ্যে বাস করতে চান। যারা সরকারব্যবস্থায় আস্থা রাখেন (যেমন: উদারপন্থী, রক্ষণশীল, সমাজতন্ত্রী এবং ফ্যাসিস্ট) তাদের বলা হয় ‘রাষ্ট্রপন্থী’। (more…)
আদি সাইফারপাঙ্কগণ ছিলেন প্রধানত ক্যালিফোর্নীয় লিবার্টারিয়ান। আমি এসেছিলাম ভিন্ন একটা ধারা থেকে। কিন্তু আমরা সবাই চেয়েছিলাম রাষ্ট্রীয় জুলুমবাজির হাত থেকে ব্যক্তির স্বাধীনতার সুরক্ষা। ক্রিপ্টোগ্রাফি ছিল আমাদের গোপন অস্ত্র। কতটা অন্তর্ঘাতমূলক জিনিস এটা ছিল তা এখন ভুলে গেছে মানুষ। ক্রিপ্টোগ্রাফি তখন ছিল রাষ্ট্রসমূহের একচেটিয়া সম্পত্তি। তারা সেটা ব্যবহার (more…)
ধানমন্ডির আবাহনী মাঠ সংলগ্ন এলাকায় চোখে পড়েছিল এই ছবিটি। পলায়নরত সুবোধকে এভাবে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল পোস্টার দিয়ে। সুবোধের এই গ্রাফিতিতে লেখা ছিল, ‘এখানে সাপ ভরা চাপ চাপ রুচি! কাপ ভরা পাপ পাপ চা! সুবোধ… তুই পালিয়ে যাহ!’
আর্টওয়ার্ক: সুবোধ গ্রাফিতি সূত্র: ফেসবুক
তো এই ‘চাপ চাপ রুচি’র দারুণ প্রয়োগই ঘটিয়েছিলেন পোস্টার লাগানেওয়ালারা। এই একটা গ্রাফিতি ঢেকে দেওয়ার প্রয়াসে তারা সফল হয়েছিলেন খুব সফলভাবে! কিন্তু ঢাকা শহরে তো সুবোধ ছড়িয়ে গিয়েছিল ততদিনে। মানুষের মনে ততদিন প্রশ্ন উঠে গেছে যে, কে এই সুবোধ? কেন পালাতে বলা হচ্ছে তাকে? ‘এখন সময় পক্ষে না’ যে বলা হচ্ছে, তো এটা কোন সময়? কেমন সময়? যে সময়ে সূর্যকে খাঁচাবন্দী করে পালিয়ে যেতে হচ্ছে সুবোধকে?
ঢাকার রাস্তায় কে বা কারা এই সুবোধকে চিত্রিত করেছেন তা জানা যায়নি আজ অব্দি। চেষ্টা হয়তো হয়েছেও কিছু, সুবোধের ঠিকুজি-কুলজি জানার। কিন্তু সেই সন্ধান পাওয়া গেছে- এমন খবর পাওয়া যায়নি এখন পর্যন্ত। #হবেকি নামধারী এই অচেনা চিত্রকর পচে-গলে যাওয়া, দমবন্ধকরা এক মৃত্যুপুরির শহরে যেন হঠাৎ করেই কিছু ফুল ছড়িয়ে দিয়েছিল। দেয়ালে দেয়ালে পলায়নরত সুবোধকে চিত্রিত করে। মানুষ মুগ্ধ হয়েছিল এর অঙ্কনশৈলি দেখে। কী এটা? সুবোধ আবার কী?- শুরুতে এমন প্রশ্ন। এরপর একটু একটু করে প্রশ্ন গাঢ় হতে শুরু করল। সুবোধ কী তবে সু-বোধ? মানুষেরই, আমার-আপনারই বোধশক্তি? নাড়া পড়ল চেতনায়।
মনোচৈতন্যে নাড়া দেওয়ার এই কাজটা সুবোধ সিরিজের গ্রাফিতিগুলো খুব ভালোভাবেই করতে পেরেছে বলে প্রতিয়মান হয়। সুবোধ খুব অল্প সময়ের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সুবোধকে নিয়ে বাঁধা হয়েছে গান-কবিতা। সুবোধের বোধ কাঁটাতারের গণ্ডিও পেরিয়ে গেছে অনায়াসেই। কোনো পাসপোর্ট-ভিসার ধার ধারতে হয়নি সুবোধকে।
কলকাতার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেখানকার শিক্ষার্থীরা সুবোধকে দেখেছেন লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবে। তারা সুবোধকে দিয়েছেন ইতিবাচকতা। সুবোধকে বলেছেন তৈরি হতে, ঘুরে দাঁড়াতে, ছড়িয়ে যেতে। হয়েছেও তো খানিকটা সেরকমই। ২০১৮ জুলাই-আগস্টে কিশোর বিদ্রোহের তোলপাড় করা সেই দিনগুলোতে একটি ছবি অনেকেরই নজর কেড়েছিল। বাংলাদেশের কিশোররা যে অসাধারণ কল্পনাশক্তির পরিচয় দিয়েছিল তাদের প্ল্যাকার্ডগুলোতে- সেখানে ঠাঁই হয়েছিল এই সুবোধেরও। একজনের হাতে ধরা প্ল্যাকার্ডে লেখা হয়েছিল, ‘সুবোধ এখন রাস্তায়’।
ছবি: নিরাপদ সড়ক আন্দোলন
হ্যাঁ! সুবোধ তো ঐ কয়েকটা দিন রাস্তাতেই ছিল। সেই সুবোধগুলোকেও শেষপর্যন্ত ঘা খেয়ে পালাতে হয়েছে। কারণ “পাপবোধ (এখনও) নিশ্চিন্তে করছে বাস মানুষের হৃদয়ে।“ সুবোধকে তাই আবারও পালাতে হয়েছে। আর কত পালাবে সুবোধ? কবে আসবে সময় পক্ষে?
সময় পক্ষে আসতে পারে। সেজন্য সময়টাকে বুঝে নেওয়াটাও মনে হয় জরুরি। এই সময়ে এমন সমাজ-পরিবেশ কিভাবে গড়া যায় যেখানে সুবোধকে পালিয়ে বেড়াতে হবে না? সুবোধের ভাগ্যেই শিকে ছিঁড়বে? সব কিছু নষ্টদের দখল থেকে আবার ফিরে আসবে সুবোধের দ্বারে? মুক্তির নিশান-স্বরূপ সূর্যটা আবার খাঁচা থেকে মুক্ত করে দিতে পারবে সুবোধ? ভোরের অপেক্ষায় থাকা মোরগটা ডেকে উঠবে তীব্র স্বরে? সুবোধও তার কোলের পাশে বসে থাকা কিশোরী মেয়েটিকে বলবে, ভোর হয়ে গেছে রে পাখি! ও যে আকুল হয়ে জানতে চায়, “সুবোধ! কবে হবে ভোর?”
আর্টওয়ার্ক: সুবোধ গ্রাফিতি সূত্র: পিনটারেস্ট
এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের দিতে হবে নতুন দৃষ্টি। আর এখানেই আসে প্রিফিগারেটিভ পলিটিক্স বা প্রাক-রূপায়নের রাজনীতি প্রসঙ্গ। অচেনা দাগ বইয়ে এর ইতিহাস-ধারণা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন সেলিম রেজা নিউটন।“প্রিফিগারেটিভ পলিটিক্স বা প্রাক-রূপায়নের রাজনীতি: রাজনীতির অরাজপন্থা” (পৃষ্ঠা ১৭৭-১৮৬)। আগ্রহীরা অনলাইনে বসেই পড়তে পারেন এখান থেকে:https://goo.gl/zPRg1m
বিষয়টির মূল বক্তব্য হচ্ছে, যেরকম সমাজ আমরা কামনা করি, আকাঙ্ক্ষা করি—তেমন সমাজ নির্মানের লক্ষ্যে কর্মতৎপরতাটাও হতে হবে সেই কাঙ্ক্ষিত সমাজের আদলে। ১৯ শতকের অরাজপন্থী James Guillaume বলেছিলেন, “একটা কর্তৃত্বপরায়ন সংগঠন থেকে কিভাবে দেওয়া যেতে পারে সাম্য ও মুক্তির সমাজ গড়ার ডাক? এটা অসম্ভব।” ইতিহাসের পৃষ্ঠাগুলো তো এই কথারই সাক্ষ্য দিচ্ছে বারবার… বারবার। ২০১১ সালের অকুপাই মুভমেন্টে খুব বড় করে উঠেছিল এই প্রিফিগারেটিভ পলিটিক্স সংক্রান্ত কথাবার্তা। David Graeber দের লেখালেখি দিয়ে।
ভীষণরকমের কর্তৃত্বপরায়ন, পুরস্কার-তিরস্কার-বহিস্কারে মত্ত ও অভ্যস্ত; এমন সংগঠন থেকে শোনা যায় গণতন্ত্র-সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান। দেশের সব রাজনৈতিক দল; সেটা ডানই হোক আর বামই হোক। যে বাদই হোক, যে তন্ত্রই হোক—সংগঠন বানানোর সময় প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি লাগবেই। এমনকি পাড়ায় ১০ জন মিলে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকগোষ্ঠী কমিটি করলেও সেখানে থাকে প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি। এই ফরম্যাটের বাইরেও যে কোনো সংগঠন হতে পারে— এই জিনিসটা যেন ভাবতেই পারি না আমরা।
নতুন সমাজটা যদি আমরা সাম্যেরই চাই, স্বাধীনতারই চাই—তাহলে এখনকার সংগঠনেও সেটা প্র্যাকটিস করব না কেন আমরা? প্র্যাকটিস করতে গিয়ে অনেক ভুল হবে; সেই ভুল থেকে শেখাও হবে — নতুন সমাজের রূপটা আরও মূর্ত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা বামপন্থী ছাত্র সংগঠনে কতজন সদস্য থাকে? ৪০-৫০ জন সর্বোচ্চ? এই কয়জন মানুষ মিলে সম্মিলিতভাবে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না?
যায়। ইচ্ছা থাকলে যায়। কিন্তু ইচ্ছাটাই বোধহয় হয় না কারও। কারণ ইচ্ছা হতে থাকলেই বেরিয়ে আসবে তাদের অনেক অজানা ইতিহাস। উঠতে থাকবে অনেক অপ্রিয় প্রসঙ্গ। সেগুলোর মুখোমুখিই হয়তো হতে চান না তারা। সংগঠনে কোনো কর্মী এসব কথা তুললেও তাই অনেককে পড়তে হয় বহিস্কারের মুখে। নিদেনপক্ষে তিরস্কারের মুখে। তিরস্কার শুনে যারা আবার সামলে নেন, লাইনে হাঁটেন—তাদের সামনে থাকে পুরস্কারের হাতছানি। এই করেই চলছে সংগঠনগুলো।
কিন্তু সুবোধের উপযোগী একটা সমাজ যদি আমরা গড়তে চাই; তাহলে আমাদের বেরোতে হবে এই চিরাচরিত চিন্তাভাবনাগুলো থেকে। করতে হবে নতুনের সন্ধান। পুরাতনকেও আবিস্কার করতে হবে নতুন করে। সুবোধ যেমন নতুন কিছু নিয়ে হাজির হয়েছে- তেমনি পরিবর্তনকামী প্রতিটি মানুষকে সক্রিয় হতে হবে। অন্ততপক্ষে চিন্তাভাবনার ক্ষেত্রে।
আর্টওয়ার্ক: অস্টিং দ্য ডিকটেটর শিল্পী: এনরিকো বার্তুসসিোলি সূত্র: কার্টুন মুভমেন্ট
কেন্দ্রীয় একটা কমিটি, পদাধিকার বলে নেতা, নেতার হাতা, অনেকগুলো মুখের একজন পাত্র; (যিনি শুধু মাইকে হুমহাম করবেন আর আমাদের-মামুদের ইচ্ছেমতো ফুল-পাতা-পায়রা ওড়াবেন, মোম জ্বালাবেন) ইত্যাদি হওয়া ছাড়াও আন্দোলন-সংগ্রাম সংগঠিত হতে পারে। সফল আন্দোলন-সংগ্রাম হতে পারে। ২০০৮ সালে রাবিতে কর্তৃত্ববিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ মঞ্চের কর্মী হিসেবে কাজ করার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা লাভের সৌভাগ্য হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে জানি যে, একক কোনো নেতা বা নেতার বিশেষ ক্ষমতা বা কোনো কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়াও কিভাবে একটা আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে এবং সেটা দারুণভাবে সফল হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্ত পরিসর তৈরি করতে পারে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আন্দোলন সম্পর্কে আগ্রহী হলে পড়তে পারেন :আগস্ট বিদ্রোহ।। মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলন : জরুরি পর্ব https://goo.gl/aVM26U
রাবির কর্তৃত্ববিরোধী মঞ্চের মূখ্য কিছু সংগঠক আগে থেকেই অরাজপন্থার ধারণার সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। ফলে ২০০৮ সালের এই আন্দোলনটি ছিল বিকল্প কোনো পথে নামার সচেতন প্রয়াস। আর অচেতন প্রয়াসটা আমরা খুব সম্প্রতি দেখলাম কিশোর বিদ্রোহে। কিভাবে একটি কেন্দ্র না থেকেও, একক নেতৃত্ব তো দূরের কথা; দৃশ্যমান কোনো নেতৃত্ব না থেকেও কিভাবে রাজধানীর রাজপথ দাপিয়ে বেড়ানো যায়— সে শিক্ষাটা খুব দারুণভাবে দিয়েছে বাংলাদেশের কিশোররা। এবং এভাবে জনগণ সক্রিয় হয়ে উঠলে, জনগণ নিজের কাজের ব্যাপারে নিজে সচেতন হলে যে সব কিছু অনেক ভালোভাবে চলতে পারে—সেই শিক্ষাটাও দিয়েছে স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েগুলো।এ প্রসঙ্গে পড়তে পারেন…
>সবুজের অভিযান: সকল ক্ষমতা চাই শিশুদের কল্পনার হাতে (https://goo.gl/VvQteH)
>রাস্তার পাঠশালায় চলে ‘এসো নিজে করি’ ক্লাস; বড়রা অংশ নেবে কি? (https://goo.gl/WnrsHu)
>লাইসেন্স আছে?: কিশোর বিদ্রোহ যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখায় (https://goo.gl/JsVtjA)
এগুলো গেল খুব নিকট উদাহরণ। প্রত্যক্ষ উদাহরণ। পার্টি-পলিটিক্সের বাইরে স্বাধীন সংগঠন গড়ে ওঠার অজস্র নজির পৃথিবীতে দেখা গেছে। বহু প্রাচীনকালের সেসব ঐতিহাসিক উপাদানের উল্লেখ নাহয় তোলা থাকল। শিল্প-বিপ্লবের সময় থেকেও সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির একেবারে শুরুর দিকেই অনেক আলাপ উঠেছিল কাঙ্ক্ষিত সমাজ ও তা রূপায়নের পদ্ধতি-কৌশল নিয়ে। সেসব ইতিহাসের গায়ে পড়া বহু বছরের ধুলো ঝাড়ার সময় বোধহয় চলে এসেছে। এ জায়গায় এসে আবারও সেলিম রেজা নিউটনের অচেনা দাগ বইয়ের “প্রিফিগারেটিভ পলিটিক্স বা প্রাক-রূপায়নের রাজনীতি: রাজনীতির অরাজপন্থা” (পৃষ্ঠা ১৭৭-১৮৬)এই অধ্যায়টির কথা উল্লেখ করছি।আগ্রহীরা অনলাইনে বসেই পড়তে পারেন এখান থেকে:https://goo.gl/zPRg1m
সুবোধ যেন আর পালিয়ে না বেড়ায়, সময়টা যেন সুবোধের পক্ষে আসে — সেই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে সবাইকেই। এটা কোনো ভ্যানগার্ড, একক ব্যক্তি-সংগঠনের করে দিয়ে যাওয়ার বিষয় না। সুবোধের বোধ উদ্বোধনের সময় এখন।#হবেকি?
বাজার-চলতি মিডিয়া ও বুদ্ধিবৃত্তি যাকে ‘নৈরাজ্য’ বলে অভিহিত করে, তা প্রকৃতপক্ষে ‘নৈরাজ্য’ নয়, ও জিনিসের নাম ‘মাৎসন্যায়’। নৈরাজ্য অন্য পদার্থ। নৈরাজ্য মানে নিয়ম, নৈরাজ্য মানে বেটার ম্যানেজমেন্ট, সেলফ ম্যানেজমেন্ট। (more…)
পশ্চিমা সমালোচক মার্টিন বুলের একটা বইয়ের নাম ‘দিস ইজ নট এ ফটো অপর্চুনেটি’। বাংলা বাক্যে অর্থ দাঁড়ায়—‘ছবির জন্য উপযুক্ত সময় নয়’। বইটি দুনিয়া কাঁপানো গ্রাফিতি শিল্পী বাঙ্কসিকে নিয়ে। প্রশ্ন হচ্ছে, বাঙ্কসি কে? একজন রহস্যময় চিত্রশিল্পী তিনি। যিনি অজ্ঞাতসারে উন্মুক্ত দেয়ালকে ক্যানভাস বানিয়েছেন। তাঁর মুক্ত হাতের শিল্পকর্ম নব্বইয়ের দশকে ইংল্যান্ডের সমাজ ও (more…)
প্যারি বসন্ত : ‘বাস্তববাদী হও, অসম্ভবের দাবি তোলো’
৫০ বছর আগের এই রকম এক বসন্তে, ফ্রান্সে উঠেছিল বিদ্রোহ-বিপ্লবের উতাল হাওয়া। সংগঠিত হয়েছিল দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বড় শ্রমিক ধর্মঘট। প্রচলিত রাষ্ট্র-সমাজের ভিত্তি ধরে টান দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শ্রমিকরা দখল করে নিয়েছিলেন কারখানাগুলো। দাবি তুলেছিলেন নতুন শ্রম-সম্পর্কের। বিশ্ববিদ্যালয় দখল করে শিক্ষার ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন শিক্ষার্থীরা। সমাজের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক কী, সমাজের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক কী— এসব প্রশ্ন তুলে পুরো সমাজকেই ঢেলে সাজানোর স্বপ্ন ছিল অনেকের চোখে। (more…)