অনুবাদ: আরিফ রেজা মাহমুদ
[ ভূমিকা: জিল দেল্যুজ ও ফেলিক্স গুয়াত্তারির অ্যান্টি-ইডিপাস বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম আলোচিত দার্শনিক গ্রন্থ। পুঁজিবাদ, মনঃসমীক্ষণ, আকাঙ্ক্ষা, পরিবার, রাষ্ট্র, বিপ্লব এবং ব্যক্তিসত্তা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে এই গ্রন্থ এমন এক চিন্তার পরিসর তৈরি করে, যেখানে আকাঙ্ক্ষাকে আর ব্যক্তির অভাব, দমন কিংবা পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে আবদ্ধ কোনো মানসিক প্রবণতা হিসেবে দেখা যায় না। আকাঙ্ক্ষা এখানে উৎপাদনশীল, সামাজিক এবং রাজনৈতিক শক্তি। এই কারণেই অ্যান্টি-ইডিপাস কেবল মনঃসমীক্ষণের সমালোচনা নয়; এটি একই সঙ্গে সমাজ, রাজনীতি ও মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে বোঝার একটি নতুন পদ্ধতির প্রস্তাব।
কিন্তু অ্যান্টি-ইডিপাস এমন একটি বই, যার ধারণা ও ভাষার জটিলতায় পাঠক খুব সহজেই এর ভেতরে পথ হারিয়ে ফেলতে পারেন। ‘ইডিপাস’, ‘সিজোফ্রেনিয়া’, ‘আকাঙ্ক্ষা’, ‘উৎপাদন’, ‘দেহ’, ‘যন্ত্র’, ‘ক্ষেত্রসীমা’ ‘বিধি’ প্রভৃতির মতো ধারণা দেল্যুজ ও গুয়াত্তারির চিন্তায় প্রচলিত অর্থ থেকে সরে গিয়ে নতুন অর্থ ও সম্পর্ক তৈরি করে। ফলে বইটিতে প্রবেশে এমন একটি পাঠ প্রয়োজন, যা একই সঙ্গে এর দার্শনিক প্রকল্প, রাজনৈতিক তাৎপর্য এবং এর ভাষার অন্তর্নিহিত গতি সম্পর্কে পাঠককে সতর্ক করে।
মার্ক সীম অ্যান্টি ইডিপাসের অন্যতম ইংরেজি অনুবাদক এবং ভূমিকার রচয়িতা। সীমের ভূমিকা শুধু গ্রন্থটির বিষয়বস্তুর পরিচয় দেয় না; বরং দেল্যুজ ও গুয়াত্তারির চিন্তার কেন্দ্রে থাকা আকাঙ্ক্ষা, অহম, সিজোফ্রেনিয়া, বিপ্লব এবং সামাজিক-রাজনৈতিক দমনের পারস্পরিক সম্পর্ককে একটি বিশেষ পাঠ-অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে উন্মোচন করে। সীমের পাঠে অ্যান্টি-ইডিপাস নিছক একটি তাত্ত্বিক গ্রন্থ হিসেবে উপস্থিত হয় না। এটি হয়ে ওঠে প্রচলিত ব্যক্তিসত্তা, পরিবার, নৈতিকতা ও সামাজিক শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে চিন্তা করার একটি আহ্বান।
বিশেষত সীমের লেখায় যে বিষয়টি গুরুত্ব পায়, তা হলো ‘অহম’কে কেন্দ্র করে নির্মিত আধুনিক ব্যক্তিসত্তার সমালোচনা। মানুষকে একটি বিচ্ছিন্ন, স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং নিজের ভেতরে আবদ্ধ সত্তা হিসেবে বোঝার পরিবর্তে দেল্যুজ ও গুয়াত্তারি তাকে অসংখ্য সম্পর্ক, আকাঙ্ক্ষা, সামাজিক শক্তি ও উৎপাদন-প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গঠিত একটি সত্তা হিসেবে দেখতে চান। সীম এই পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গির দিকে পাঠককে নিয়ে যান। ফলে তাঁর ভূমিকা অ্যান্টি-ইডিপাস বোঝার জন্য কেবল একটি সহায়ক লেখা নয়, বরং গ্রন্থটির রাজনৈতিক ও দার্শনিক অভিঘাত উপলব্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার।
মার্ক সীমের ভূমিকাটি প্রবাহমান শিরোনাম অনুবাদকের প্রস্তাবনা। এর অনুবাদ সম্পাদনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নেয়া হয়েছে। বিশেষত সরল বাক্য গঠন এবং পরিভাষা তৈরির ক্ষেত্রে। তবু জটিলতা ও দুর্বোধ্যতা এড়ানো যায়নি। পরবর্তী সংস্করণে তার প্রয়াস থাকবে ]

“আমাদের অবশ্যই অহমরূপে মৃত্যুবরণ করতে হবে। আবার জন্ম নিতে হবে সমষ্টির মধ্যে। বিচ্ছিন্ন ও আত্মমোহে আবদ্ধ সত্তা হিসেবে নয়, বরং স্বতন্ত্র অথচ সংযুক্ত সত্তা হয়ে”
— হেনরি মিলার,, সেক্সাস (more…)
