অরাজ
প্রচ্ছদ » ভলটারিন ডি ক্লেয়ার || প্যারিস কমিউন 

ভলটারিন ডি ক্লেয়ার || প্যারিস কমিউন 

  • অনুবাদ: খন্দকার তুর আজাদ

সম্পাদকের নোট: ভলটারিন ডি ক্লেয়ার ছিলেন একজন আমেরিকান অরাজবাদী লেখক, বক্তা, শিক্ষক ও কবি। রাষ্ট্র, পুঁজিবাদ, পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ ও  শক্তিশালী লেখনী ও বাগ্মীতা দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়া এই নারীকে তার সময় থেকে অগ্রসর একজন নারীবাদী হিসেবেও গণ্য করা হয়। ১৯১১ সালে, প্যারি কমিউনের ৪০ বর্ষ পূর্তিতে এটি একটি চিঠি আকারে লিখেছিলেন ভলটারিন ডি ক্লেয়ার। এটি প্রকাশিত হয়েছিল এই বইয়ে: “The Selected Works of Voltairine de Cleyre: Poems, Essays, Sketches and Stories, 1885-1911”। 

ভলটারিন ডি ক্লেয়ার (১৮৬৬-১৯১২)

মানব ইতিহাসের অন্যসব চমকপ্রদ ঘটনার মতো প্যারিস কমিউনও একইভাবে এর শত্রু ও বন্ধু; উভয়ের জন্যই অসংখ্য কিংবদন্তীর সাথে জড়িত। প্রকৃতপক্ষে মাঝেমধ্যে এই প্রশ্নই করতে হয় যে: কোনটা আসল কমিউন ছিল? কোনগুলো আসলেই ঘটেছিল আর কোনগুলো সময়ের সাথে সাথে নানা ধারণা থেকে জন্ম নিয়েছে? ১৮ মে ১৮৭১ এর পরবর্তী প্রায় ৪০ বছরে যে ধারণাগুলো জন্ম নিয়েছে বিশ্ব মানসে। 

মতবাদ, ব্যক্তিত্ব, ঘটনা প্রতিটি ক্ষেত্রেই একই ব্যাপার ঘটে থাকে। 

প্রকৃত ক্রিশ্চিয়ানিটি কী, যেই সরল মতবাদ খ্রিষ্টের দ্বারা প্রবর্তিত নাকি সংঘবদ্ধ ক্রিশ্চিয়ানিটি বাস্তবে যে প্রচারণা চালায়? আসল আব্রাহাম লিংকন কে,– চতুর রাজনীতিবিদ, যিনি একটি নীতি হিসেবে ভূমি দাসদের মুক্ত করেছিলেন নাকি মানব মুক্তির একজন কিংবদন্তী সংস্কারক, যিনি প্রথাবিরোধী অধিকারের পক্ষের এক বিশাল আকৃতি হিসেবে পুরাতন সব ভুলকে ধূলিস্মাৎ করেছেন, এবং সে কারণে শহীদের মর্যাদা লাভ করেছেন?

আসল কমিউন কোনটা, — যেই ব্যাপারটা অস্তিত্বশীল ছিল, নাকি যেটা আমাদের বক্তরা চিত্রিত করেছেন? কোনটা আগামী দিনগুলোতে প্রভাববিস্তারকারী ক্ষমতা হয়ে উঠবে? আমাদের কমিউন বিষয়ক বক্তারা এটা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করে এবং বলায় অভ্যস্ত যে, কমিউনের ঘোষণা ছিলে প্যারিসিয়ান জনতার স্বাধীনতার স্বতঃস্ফূর্ত উচ্চারণ, যেটা এ ব্যাপারের প্রতি সচেতন ছিল যে, ফ্রান্সের জাতীয় সরকার প্রুসিয়ান আর্মির বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে তাদের সাথে খুব জঘন্য রকমের ভূমিকা নিয়েছে। তারা বিশ্বাস করে শহরটা পরিস্থিতির যে প্রহসনের মুখোমুখি হয়েছে তা সাধারণ জনতার চোখ খুলে দিয়েছে। সাধারণ জনতার কাছে এ ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়েছে যে, জাতীয় সরকার একটি সরকারের মূখ্য ভূমিকা পালন করা, যেমন, বহিঃশত্রুর হাত থেকে রক্ষার নিয়ামক হওয়া থেকে বহুদূরে ছিল। আসলে এই জাতীয় সরকার প্যারিসিয়ান জনতা এবং তাদের স্বার্থের থেকে এত বিচ্ছিন্ন ছিল যে, এটা এর প্রতিরক্ষায় সহায়তা করা বা জনতাকে নিজেদের রক্ষা করতে দেয়ার চেয়ে  নিজেদের আধিপত্যকে হুমকির মুখে ফেলে তাদেরকে প্রুশিয়ানদের হাতে ছেড়ে দেয়াকে বেছে নিয়েছিল। 

এটা একটা আক্ষেপের বিষয় যে প্যারিসের জাগরণের কিংবদন্তী রুপটা আসলে সত্য নয়। কমিউনটা বাস্তবে প্যারিসের সমগ্র জনতার তৈরী করা ছিল না, এমনকি এটা প্যারিসের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনতারও কাজ নয় । কমিউনটা আসলে তৈরী হয়েছিল তুলনামূলকভাবে স্বল্প সংখ্যক যোগ্য বা যথার্থভাবে বললে মেধাবী এবং প্রচন্ডভাবে নিবেদিত পুরুষ ও নারীদের দ্বারা। তারা ছিল জীবনের প্রতিটা স্তর থেকেই আসা মানুষ । তবে তুলনামূলক এর বড় ভাগ এসেছিল সামরিক ব্যক্তি, প্রকৌশলী এবং রাজনৈতিক সাংবাদিকদের থেকে যাদের কেউ কেউ কিনা এরা আগে বারবার রাষ্ট্রদ্রোহী লেখা বা বিদ্রোহী আচরণের দায়ে জেলখানা ঘুরে এসেছেন। তারা নির্বাসন ভেঙে প্রতিবেশী দেশগুলা থেকে থেকে এসে জড়ো হয়েছিলেন এমন ভেবে যে: এটা ছিল পূর্বের ভুলগুলা শুধরানোর সুযোগ। তাঁরা মানুষকে জাগ্রত করেছিল ১৮৪৮-এর সংগ্রামকে নতুন করে নির্মান করে তা ছড়িয়ে দিতে। এটা সত্য যে সেখানে তাদের সাথে শিক্ষক , শিল্পী, ডিজাইনার, প্রকৌশলী , নির্মানশ্রমিক, প্রতিটা ধরনের দক্ষ কারিগর ছিল। এবং সম্ভবত এই গল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অধ্যায় হল শ্রমিকদের একত্রিত হয়ে সাক্ষাতের বর্ণনাটুকু। শ্রমিকরা ১৮ মার্চের আগে এবং পরে রাতের পর রাত এই শক্রদের দ্বারা ঘেরাও করা শহরের প্রতিটা কোয়ার্টারে একত্রিত হতো। এরকম সাক্ষাতে সেসব মানুষেরা যেত যারা কিনা মানুষ কী অর্জন করতে পারবে এবং পারে সে ব্যাপারে প্রবল বিশ্বাসে দীপ্ত ছিল।  নতুন সামাজিক ভবিষ্যতের উজ্জ্বল দৃষ্টিকল্প চোখে নিয়ে তারা  শ্রোতাদের কী অর্জন করা সম্ভব সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে বুঝানোর চেষ্টা করতেন। তাদের এই প্রবল বিশ্বাসের স্ফুরণ, আকাঙ্ক্ষা, সাহসিকতা এবং নির্ভিকতার প্রাণশক্তির উচ্ছাস বসন্তের সুবাসের মতো করেই যে কেউ অনুভব করতে পারে এবং যে কারো মনে হয় যেন সে নিজেই সেখানে উপস্থিত। সে যেন তাদের সাথেই এই কাজ, বিপত্তি, এই গৌরব, ভ্রান্তিময় নিশ্চয়তার অংশীদার। 

এবং তারপরও নিশ্চয় এটাই সত্য যে, কমিউনের এই প্রচারকরা তাদের নিজেদের উৎসাহ এবং তারা অন্যদের মধ্যে জাগ্রত করা উদ্দীপনার ঘোরে এই ব্যাপারে অন্ধ-বধির ছিলেন যে জনতার নিশ্চুপ বড় অংশ যারা এই সব পাব্লিক মিটিং এ অংশ নেয়নি , যারা তাদের বাসায় বা দোকানে নীরবতা বজায় রেখেছিল, তারা কমিউনের প্রচারকারীদের এইসব শিক্ষায় পালটে যায়নি বা প্রভাবিত হয়নি। 

কমিউনার্ডডের মধ্যে যারা জীবিত তাদের কাছ থেকেই আমরা জানতে পারি যে যারা এই মহা জাগরণের সক্রিয় এবং আগ্রাসী সত্তা ছিলেন তাদের সংখ্যাটা ২০০০ এর খুব বেশি ছিল না। জনতার বেশীরভাগই তাদের মাথার উপর দিয়ে কী চলছে সে ব্যাপারে নির্লিপ্ত ছিল যাতে করে কিনা তাদের ব্যক্তিগত জীবনের শান্তি এবং নীরবতা ফিরতে আসে, যাতে করে প্রুসিয়ানদের অবরোধ ভাঙে এবং তারা নিজেদের কাজকর্মে ফেরত যেতে পারে। যদি কমিউন সে নিশ্চয়তা দিতে পারে, তবে সেটার জন্য শুভকামনা! তারা এই অবরোধে ক্লান্ত ছিল এবং তাদের পুরাতন দুর্দশায় ফিরে যেতে চেয়েছিল, যেখানে তারা কিছু অর্থে অভ্যস্ত ছিল, তারা আসলে এর চেয়ে ভাল কিছুর স্বপ্ন সেভাবে দেখেনি। 

তবে কৌশলী মুহুর্ত আসলে সচরাচর যেটা হয়, এই সব সাদামাটা,নির্বিকার, উদাসীন মানুষেরা যারা রাজনৈতিক অধিকার, পৌর সার্বভৌমত্ব এবং এরকম আরো সব ব্যাপারে জানে না এবং জানার আগ্রহ রাখে না তারা বরং অনেক বেশী তাত্ত্বিকতায় নিজেদের বিভ্রান্ত করা লোকদের চেয়ে সরাসরি পরিস্থিতির যৌক্তিক অবস্থা দেখতে পারে। সেভাবেই, কমিউন একটি প্রতিষ্ঠিত বাস্তবতা হয়ে যাবার পর প্যারিসের জনগণ সাধারণভাবে এটা বুঝেছিল যে, পরের একমাত্র পদক্ষেপ হওয়া উচিত একইসাথে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক যুদ্ধ চালানো। জাতীয় সেনাবাহিনী যা কিনা শহরের মধ্যে অবস্থান করছিল তাতে সরবরাহ যোগানোর যেকোন উৎসই বন্ধ করে দেয়া। সেটা করার বদলে কমিউনের সরকার যা কিনা আগের শাসনের চেয়েও নিজেদের আইন অনুরাগী দেখাতে চেয়েছিল,তা নির্বোধের মতো তার শত্রুদের সম্পত্তির অধিকারকে সমর্থন করে গেছে। এবং তারা ব্যাংক অব ফ্রান্সকে  সেসব ব্যক্তিদের অর্থ যোগান দিতে দিয়েছে যারা কিনা ভার্সেই এর সেনাবাহিনীকে অর্থ সরবরাহ করেছে, যেই সেনাবাহিনী কিনা ছিলই তাদের গলা কাটার জন্য। 

স্বাভাবিকভাবে, সাধারণ মানুষেরা এমন একটি নির্বোধ কর্মসূচির প্রতি বিরক্ত হয়ে উঠেছিল। এবং ভার্সাইয়ের সৈনিকদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সংগ্রামে মোটের উপর তারা কোন অংশই নেয়নি, এমনকি তাদের শহরে প্রবেশ করার চিন্তার ব্যাপারেও কোন বিরোধিতা করেনি। সম্ভবত একটি উল্লেখযোগ্য অংশ, দুই দানবের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম দানবের ফিরে আসার ধারণায় স্বস্তির নিঃশ্বাসও ফেলেছে। তারা অল্পই ভাবতে পেরছিল যে এদের ফিরে আসার পথটুকু তাদের নিজেদের  রক্তেই রঞ্জিত হবে এবং যারা কিনা কমিউনের পক্ষে কিছু বলেনি বা করেনি তারাও এর শহীদে পরিণত হবে। বিদ্রোহের উপর আইন-শৃঙ্খলার উন্মত্ত প্রতিশোধ, পুনঃপ্রতিষ্ঠিত ক্ষমতার *স্যাটারনালিয়া সম্পর্কে তারা সামান্যই ধারণা করতে পেরেছিল। 

আমি চিন্তা করি, তারা কি ২০ মে র রাতের আগে ঘুমাতে পেরছিল, যখন প্রতিহিংসার ঘন মেঘ আছড়ে পড়ার জন্য জড়ো হচ্ছিল? অনেকেই পরের রাতেও ভালমতো ঘুমিয়েছিল এবং এখনও ঘুমন্ত কেননা “এরপর শুরু হয় এক নৃশংস এবং ভয়নক হত্যাকান্ড”– এমন এক হত্যাকান্ড যেটাকে নিয়ে আঁকা ছবি এই ৪০ বছর পরেও রক্ত হিম করে দেয় এবং প্রবল আতংক ও ঘৃণা জাগায়। ম্যাকমাহন প্যারিসের রাস্তায় শান্তি ঘোষণা করল এবং তার সৈনিকদের সেই শান্তি কায়েম করতে পাঠাল। এবং সেই শান্তির নামে গালিফে যে কিনা জাহান্নামের মানব রুপ সে প্যারিসের রাস্তায় নেমে শিশুদের খুলি ছিন্ন করে তার সৈনিকদের জন্য উদাহরণ তৈরী করল। কোন হাত শাটারের কাছে আসলেই জানালা বুলেটে জর্জরিত করে ফেলা হতো । যদি প্রতিবাদের কোন একটা ধ্বনিও কোন গলা থেকে বেরিয়ে আসতো , তবে সেই  ঘরে আক্রমণ করা হতো, তার বাসিন্দাদের তাড়িয়ে বের করে দেয়াল বরাবর লাইন করে গুলি করা হতো। আহতদের বিছানাদের পাশে থাকা ডাক্তার এবং নার্স, হাসপাতালের রোগীরা সবাইকে হত্যা করা হয়েছিল, তারা যেই অবস্থায় ছিল সেভাবেই। এমনই ছিল ম্যাকমাহনের শান্তি।

রাস্তায় হত্যাযজ্ঞের পর দূর্গ প্রাচীর গুলোতে সংঘবদ্ধ হত্যাযজ্ঞ, স্যাটোরির অগ্নিকুন্ড, গাদাগাদি করে সমবেত করা জেলখানার কয়েদীরা, লন্ঠন হাতের নিষ্ঠুর আগন্তুক,  উঠে আসা এবং অনুসরণের নির্দেশের বীভৎস ডাক, পিচ্ছিল রক্তভেজা মাটিতে দন্ডপ্রাপ্তদের নিজেদের জন্য খুঁড়া সব গর্ত যেগুলাকে তাদের নিজেদের মৃতদেহ দিয়েই বোঝাই করা হবে। ৩০ হাজার মানুষ খুন! কর্তৃত্বের অতৃপ্ত প্রতিহিংসা এবং তাদের উন্মত্ত রক্ত পিপাসু পেশাদার সৈনিকের হাতে জবাই ৩০ হাজার মানুষ ! সামান্যতম কারণের ছুতো ছাড়া, অনুসন্ধানের ন্যুনতম ছায়াটুকু ছাড়া , শুধুমাত্র  নির্মম ক্ষোভের বলি হল ৩০ হাজার মানুষ!

ক্রোধের মচ্ছবের পরে দমনের মচ্ছব। কয়েদীদের জড়ো করা হতো মাটির নিচের কক্ষে যেখান তাদের স্যাতস্যাতে মাটিতে হয় হামাগুড়ি দিয়ে বা শুয়ে থাকতে হতো। তারা আলোর দেখা পেত মাত্র একবার যখন কিনা সূর্যের আলো কোন এক বন্ধ না হওয়া ফাটল দিয়ে তাদের কাছে পৌছাত। দিনে এবং রাতে উভয় সময়ই তাদের দেশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বদলি করা হত। মাঝেমধ্যে সে কাজে ব্যবহার করা হতো প্রানীদের বহন করার গাড়ি। সেখানে তাদেরকে  ঠেসে বোঝাই করা হতো, গাদাগাদি করা অবস্থায় এমনভাবে তাদের ফেলে রাখা হতো যেমনটা কিনা আমাদের  কসাই সমাজও জবাই করার জন্য জড়ো করা শুয়োরদের সাথে করতেও লজ্জিত হবে। মাঝেমধ্যে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হতো ভীতিকর পদযাত্রার মাধ্যমে। মূলত রাত্রেই সে পদযাত্রা চলত, প্রায়শই বৃষ্টির মধ্যেই পথ চলতে হতো তাদের, এরইমধ্যে সৈন্যরা গাদা বন্দুকের বাট দিয়ে তাদের শরীরে আঘাত চালাতো যেহেতু দুর্বলতা অথবা পঙ্গুত্বের কারণে তারা পিছিয়ে পড়ত। 

এর পরে বন্দিত্বের জেলখনাগুলা। সেসবে ছিল  ক্ষুধা, ঠান্ডা, কীট , ব্যাধি, বন্দিত্বের সুদীর্ঘ যন্ত্রনা এবং অপেক্ষামান মৃত্যুর অন্ধকারের ছায়া। তারপর কমিউনার্ড বা সন্দেহভাজন কমিউনার্ডদের উপর নির্যাতন, যা চালানো হত যাতে তারা তাদের বন্ধুদের খোঁজ জানিয়ে দিতে বাধ্য হয়। 

যারা এসবে দেখেছে তাদের পক্ষে কি  “ভুলে যাওয়া এবং ক্ষমা করে দেয়া” সম্ভব ? বাবা কোথায় তা বলতে বাধ্য করার জন্য দশ বছরের শিশুরের চাবুক মারতে দেখেছে যারা। লড়াই করা ছেলেদের নাকি লড়াই না করা মেয়েদের, কাদের সৈন্যদের নিষ্ঠুরতার হাতে তুলে দিব, এমন ভয়ানক সিদ্ধান্তের মুখে দাঁড়িয়ে উন্মাদে পরিণত হয়েছে যেই মহিলারা। তাদের পক্ষে কি সম্ভব?

শিকার ধরার নির্যাতনের পর বিচারের নির্যাতন, ভাব গাম্ভীর্য্যপূর্ণসব প্রহসন, চাতুর্যপূর্ণ নিষ্ঠুরতা। সেসবের পর জেলখানা থেকে বন্দরে আশাহীন সারিবদ্ধ নির্বাসিতদের যাত্রা। পণ্য পরিবহনের জাহাজে বোঝাই করা হতো তাদের, খাঁচাবন্দি প্রাণির মতো নজরদারিতে রাখা হতো, নিজেদের মধ্যে কথা বলাও নিষিদ্ধ ছিল, মাথার উপর হুমকিস্বরূপ কামানগুলা থাকত সবসময়। এরপর তাদের দূরে বিতারিত করা হতো, বিতারিত করা হতো নির্বাসনের জমিতে। বিরান দ্বীপ থেকে উপকূলে পাঠানো হতো তাদের, সেখানে নিঃসঙ্গতায়, অকার্যকারিতায় ক্ষয় হবার জন্য । তাদের সঙ্গী হতো স্বাধীনতার নিষ্ফল স্বপ্ন যার সমাপ্তি ঘটত গোড়ালিতে বাঁধা শেকলে, অথবা প্রবাল প্রাচীরে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। এসবই ছিল বিদ্রোহী নগর, যার কাজ কিনা ফ্রান্সের গৌরব এবং যার সৌন্দর্য দুনিয়ার সৌন্দর্য , তার প্রতি জাতীয় সরকারের দেখানো ক্ষমা এবং প্রজ্ঞার নমুনা। আমাদের আর যা যা শিখতে হবে সেসব বাদে এটা খুবই নিশ্চিত একটা শিক্ষা; তা হল পুনঃপ্রতিষ্ঠিত কর্তৃত্বের অতৃপ্ত প্রতিশোধ। যদি কেউ আর কখনো বিদ্রোহ করে, তবে তাকে শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহ করতে দেয়া হোক; যেই ক্ষমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা হয় তার বিচার বা ক্ষমার প্রতি আশা রাখার চেয়ে নিস্ফল আর কিছুই হয় না। পুনরায় দখলদারিত্ব কায়েম করা সরকারের  বৈষম্য, বিচার বা প্রজ্ঞার প্রতি বিশ্বাস রাখার চেয়ে সরল আর নির্বোধ কোন বিশ্বাসই হতে পারে না। 

ইউনিভার্সাল হিস্টরি আর্কাইভ

সেসময় ফ্রান্সের অন্যসব শহরে একই ধরনের কার্যক্রমের সাধারণ প্রতিক্রিয়া দ্বারা (যদি প্যারিস তার সংগ্রাম আরো কয়েকমাস চালিয়ে যেত) সেসময় স্বাধীন কমিউনের দরকারি নীতিগুলা বাস্তবায়িত হতো নাকি হতো না, সেটা বলার মতো যথেষ্ঠ ঐতিহাসিক বা ঐতিহাসিক ভবিষ্যতবক্তা নই। আমি তা সম্ভব হতো না মনে করবার দিকেই ঝুঁকবো। তবে নিশ্চিতভাবেই সংগ্রামটা আরো ভিন্ন ধরনের হতো, এটা তখন এবং পরের হিসাবেও অনেক বেশী ফলপ্রসূ হতো (এমনকি যদি শেষমেষ এটাকে উৎখাত করা হতো), যদি এটা আসলেই সে সকল মানুষের একটি সংগ্রাম হতো যাদেরকে এটার জন্য বাছ-বিচার ছাড়াই হত্যা করা হয়েছে, ভয়ানকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, ক্ষমাহীনভাবে নির্বাসিত করা করা হয়েছে। এটা যদি আসলেই লাখো মানুষের মুক্ত হবার সচেতন অভিব্যক্তি হতো, তবে তারা তাদের নিজেদের দরজা হতে শত্রুদের জন্য যা কিছুর যোগান দেয়া হচ্ছিল তা কেঁড়ে নিত, তারা যেই ক্ষমতাকে উচ্ছেদ করার জন্য লড়াই করছিল সেই ক্ষমতার বানানো ‘সম্পত্তির অধিকার’ এর ধারণাকে অস্বীকার করত। তার বুঝতে পারতো কী করা জরুরি ছিল এবং তাই করত । 

যদি আসল কমিউনার্ডরা তাদের নিজেদের প্রচেষ্টার কার্যকরণ বুঝতো, এবং তারা যদি বুঝতো যে রাজনৈতিক ব্যবস্থার অধীনতা যা কমিউনগুলাকে দাসত্বের মুখোমুখি করেছে তা উচ্ছেদ করতে হলে তাদেরকে অবশ্যই সেসব অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করতে হবে যেগুলাই কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রকে অস্তিত্বশীল করে। যদি তারা নগরীর সব সম্পদকে সাধারণভাবে কমিউনের সম্পদে পরিণত করতে পারত, তাহলে তারা হয়ত এই সংগ্রামে মানুষের সম্পূর্ণ আস্থা অর্জন করত এবং এই সংগ্রাম বিজয়ের  জন্য বহুগুণ প্রচেষ্টা জাগ্রত করত। যদি তাদেরকে সংক্রামক রোগের মতো ফ্রান্সের অন্যসব শহরেও পিছু নেয়া হতো তবে এই বিদ্রোহের অগ্নিশিখা *লাতিন ইউরোপেও ছড়িয়ে যেত। এবং সেই সব দেশ হয়ত এখন একটি নিজস্ব ধাঁচের সমাজতন্ত্রের পরিবর্ধিত রূপ এবং স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের বাস্তব উদাহরণ হতো। সামনের কোনো একই রকমের বিস্ফোরণে এমনটা হবার কথা; যদি রাজনৈতিকরা আবার এমন উস্কানি তৈরি করার মতো অবিবেচক হন। সামাজিক বিজ্ঞানের সেরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই নিশ্চিত যে, প্রগতির ধারা এমনটাই হবে। 

আমি সোজাসাপ্টাভাবে বলি যে, আমি ভবিষ্যতের প্রগতির পথ দেখতে পারিনা,–আমার দৃষ্টিকল্প এতটা বিশাল নয়, আমার দৃষ্টিভঙ্গি এতটা উঁচু নয়। যেখানে অন্যরা সকালের সূর্যের আলোকে আঁকড়ে ধরে সেখানে আমি শুধুই কুয়াশা খুঁজে পাই– উড়তে থাকা ধূলি কণা আর চলমান অন্ধকার যা ভবিষ্যতকে অস্পষ্ট করে। আমি জানি না এই পথ কোনদিকে যায় বা আমাদের কোন গন্তব্যে নেয়। শুধুমাত্র পিছে ফিরে দেখলে, মানব জাতি যে দীর্ঘ, ভয়ানক এবং পরিশ্রমসাধ্য পথে সামনে এগিয়েছে তার কিছু আভা পাই, এমনকি সেটাও আমি স্পষ্ট দেখতে পারিনা– শুধু তার কিছু নমুনা এখানে সেখানে ছড়ানো দেখতে পাই। তবে এটা কখনোই সরল, অবিচ্যুত কোন পথ যে ছিল না- তা জানবার মতো যথেষ্ঠ দেখতে পারি। এই পথ সবসময় বাঁক বদলায় ও ফিরে আসে। এবং এমনকি কিছু অর্জনের সময়ও কিছু হারিয়ে যায় ।  

প্রকৃতির আক্রমণের মুখে মানুষ তার সামাজিক শক্তিকে জড়ো করে এবং এর দ্বারা তার আর বিচ্ছিন্ন অবস্থার স্বাধীনতা হারায়। আদিম সমাজের বিরুপ পরিস্থিতির মুখে সে তার উদ্ভাবনী প্রতিভা প্রয়োগ করে,– ভূমি, সমুদ্র এবং আকাশ প্রদক্ষিণ করে,–এবং নিজের সীমাবদ্ধতাগুলাকে জয় করাটাই তাকে নতুনভাবে শৃঙ্খল বন্দি করে। সে এমন এক সম্পদ তৈরী করে যা উৎপাদন করতে গিয়ে সে নিজেকে দাসে পরিণত করে। 

এবং এটাই প্রগতির পথ, যা কিনা কোন পূর্বাভাসে ছিল না!

তাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে? কী আশা রয়েছে সেখানে? রয়েছে কী সাহায্য?

কী অপেক্ষা করে? অপেক্ষ করে অজানা, যেমনটি সবসময় করেছে,– অন্ধকার, অস্পষ্ট, গভীর, অভেদযোগ্য– যেই রহস্য নবীন এবং শক্তিশালীদের এই বলে প্রলুব্ধ করে, “আসো এবং আমার সাথে মানিয়ে নাও”, যেই রহস্য থেকে বৃদ্ধ এবং জ্ঞানীরা এই বলে পিছু হটে “আমরা যা জানিনা তার অভিমুখে উড়বার চেয়ে আমাদের যা সব মন্দ আছে তাদের সহ্য করা শ্রেয়”, বৃদ্ধ এবং জ্ঞানী, কিন্ত হায়! হিমশীতল রক্তের অধিকারী! পৃথিবী, সূর্য এবং ভূগর্ভে এখনও অবাধ্য রহস্য রয়েছে। এবং এসবের কোন একটা ছুটে গেলে হয়ত আমরা এতদিনের জন্য যা কিছুকে মুক্তির নিশ্চয়তা ভেবেছি তাই দাসত্বের শৃঙ্খল হয়ে উঠতে পারে। যেমনটা এর আগে পরিশ্রম দ্বারা অর্জিত স্বাধীনতার ক্ষেত্রে হয়েছে, পরে শব্দ ব্যবহার করে তা সে সময় না জন্মানো মানুষদের জন্য অবশ্য মান্যতে পরিণত করা হয়েছে। এবং তারপরও– এটা অপেক্ষামান।

কমিউনের স্মরণে || শিল্পী: ওয়াল্টার ক্রেন

তুমি কি সাহসী এবং শক্তিশালী? অজানা তোমাকে সংগ্রামের জন্য আহবান জানায়, তাকে বিজয় করার দুঃসাহসিকতার হাতছানি দেয়। না, হয়তো এটা তোমার ভবিষ্যতের ভালবাসা, যা কিনা তোমার দুঃসাহসী তাড়নাকে নব সৃষ্টির উদ্দীপনায় পুরষ্কৃত করবার জন্য অপেক্ষা করে। তুমি কি দুর্বল এবং চিত্তে ভীরু? তোমার মাথা মাটিতে নত কর। তবু তোমাকে ভবিষ্যতের মুখোমুখি হতে হবে। তবুও তোমাকে অন্যদের পথে যেতে হবে। তুমি তাদের বাধাগ্রস্ত করতে পারো, তাদের যাত্রাকে বিলম্বিত করতে পার; কিন্ত তুমি পারবে না থামাতে, না তাদের, না নিজেকে।

সংগ্রামের অপেক্ষামান– নিষ্ফল সংগ্রাম, বিধ্বস্ত সংগ্রাম, ভুল সংগ্রাম, দীর্ঘ এবং বারবার। এবং এসবের চেয়েও বাজে হল , অপেক্ষা অপেক্ষামান ,– নিষ্কৃয়তার দীর্ঘ মৃত ধাপ, যখন কেউ কিছু  করে না, যখন কিনা দুঃসাহসীরাও শুধুমাত্র একই জায়গায় ফিরে আসার বৃত্তে ঘুরপাক খায়; যখন কেউ জানে না কী করতে হবে, শুধুমাত্র অসহ্য পরিস্থিতির ক্রমেই বাড়তে থাকা চাপ সহ্য করতে হয়, কীভাবে সে পরিস্থিতি ভাল করতে হয় তা সে জানে না;  যখন কিনা বেঁচে থাকা একটা নিরাকার তেপান্তরে একঘেয়ে যাত্রার মতো মনে হতো, যখন কিনা কেউ বের হবার আশায় প্রতিটা লক্ষ্যহীন পথ হাতড়ে মরে তখন সেসব পথ থেকে একই  নিষ্করুণ শব্দ “অদরকারি” তার দিকে দৃষ্টি হানে। যে ব্যক্তি উত্তপ্ত  এবং বিক্ষত আত্মার অধিকারী  হলেও স্পষ্ট বিচারশক্তি দিয়ে দেখতে পায় যে সে অনির্দিষ্টকাল ধরে যে সব অন্যায় রয়েছে  তা মেনে চলতে বাধ্য, সে ব্যক্তির তুলনায় ভুল সংগ্রামে প্রাণ হারানো ব্যক্তি বেশি সুখী। কী আশা রয়েছে তাতে? এটা যে, পরিস্থিতির ক্রমাগত বাড়তে থাকা চাপ হয়ত দ্রত বুদ্ধিমত্তা আনবে; যে ভ্রান্ত সংগ্রাম, হতাশাগ্রস্ত সংগ্রাম থেকেও  আগে দেখা যায়নি এমন ভাল পরিণতি আসে। যেমন করে আমদের বস্তুগত জীবনের অনস্বীকার্য উন্নতি থেকে অদৃষ্টপূর্ব খারাপ ফলাফলও  অনুগামী হয়।  

কমিউন চেয়েছিল প্যারিসকে মুক্ত করতে এবং সেটার মাধ্যমে অন্য অনেক শহরের জন্য উদাহরণ তৈরী করতে। সম্পূর্ণ পরাজয়ের মধ্য দিয়ে এর পতন ঘটে, এবং সে কারণে কোন শহরই মুক্ত হয় না। কিন্ত এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে এর মানুষদের কারিগরি  জ্ঞান এবং দক্ষতা অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে, একইসাথে সভ্য কেন্দ্রস্থল এবং বন্য পরিত্যক্ত জায়গায় পৌছে যায়। এবং যেখানেই এর শিল্প পৌছায়, সেখানেই এর ধারণাগুলিও পৌছায়। সুতরাং ‘কমিউন’,  আদর্শায়িত কমিউন, দুনিয়াজুড়ে কারখানাগুলায় যেখানেই কিছু শ্রমিক তাদের সাথের শ্রমিকদের জাগ্রত করতে চায় সেখানেই এগুলো অনুপ্রেরণার শব্দে পরিণত হয়েছে। 

অনেকেই সুনির্দিষ্ট আশা আছে; যারা মনে করে তারা সঠিকভাবে জানে কীভাবে বাড়তি কাজ, কাজের অভাব, দারিদ্র এবং এসবের ফলে সৃষ্ট সব আত্মিক দাসত্বকে উচ্ছেদ করতে হবে। তারা ভাবে যে ব্যালট বাক্সের ফাঁক দিয়ে তারা  খুব স্পষ্ট এবং বিশদভাবে প্রগতি দেখতে পায়।আমি ভয় পাই যে,  যদি তারা কখন এসব বাস্তবায়ন করতে পারে তবে তাদের কর্মকান্ডের এমন কিছু ফলাফলও থাকবে যেগুলা তারা হিসাবে আনেনি।আমি ভয় পাই যে, তাদের সংকীর্ণ দৃষ্টীভঙ্গি তাদের সাথে ভালই প্রতারণার খেলা খেলে। পাহাড় চূড়ায় ওঠা আর কাউকে ভোট দিয়ে উপরে উঠানো সম্পূর্ন ভিন্ন ব্যাপার।

যাই ঘটুক: মানুষ সবসময় ই আশা দেখে; জীবন সবসময় আশার পক্ষে। যখন কিনা সুনির্দিষ্ট কোন লক্ষ্য চিহ্নিত করা যায় না, তখনও হার না মানা আশার চেতনা বেঁচে থাকা গণমানুষকে কিছুর দিকে তাড়িত করে, যেই কিছু কোন না কোনভাবে আগের চেয়ে ভাল হবে।  

কী সাহায্য আছে? বাইরের কোন শক্তির থেকে কোন সাহায্য নেই; মাথার উপর থেকে কোন সাহায্য আসবে না; আসমান থেকেও কোন সাহায্য আসবে না, যতই প্রার্থনা করা হোক না কেন; বিজ্ঞ মানুষদের শক্তিশালী হাত থেকেও কোন সাহায্য নেই,  ভাল মানুষদের থেকেও নেই , তা যত জ্ঞানী বা ভালই হোক না কেন। এমন সাহায্যের শেষ পরিণতি সব সময় স্বৈরতন্ত্রই হয়। যেসব মহৎ অন্ধবিশ্বাসীদের চেষ্টা শোচনীয় ব্যর্থতায় শেষ হয়, তাদের আত্মদানেও সাহায্য নেই , যেমনট ঘটেছিল কমিউনের ক্ষেত্রে । সাহায্য তাদের থেকেই আসবে যারা তাদের সাধারণ ইচ্ছার দ্বারা কীভাবে, কখন, কোথায় কাজটি করবে তা বলে।

কমিউনের শিক্ষার শক্তি এই যে, যেসব মানুষ এখনও স্বাধীনতাকে ধারণায় আনেনি, তাদেরকে মুক্ত করা যাবে না। কিন্ত এই ধরনের উদাহরণ থেকে তারা স্বাধীনতাকে ধারণ করবার শিক্ষা পেতে পারে। এটা উপহারের মতো করে অপর্ণ করা যাবে না, যারা এটা চায় তাদেরকে এটা অর্জন করে নিতে হবে। আমরা আশা করি যে যারা এই শিক্ষা দিয়ে গেছে এতটা ত্যাগের বিনিময়ে, তারা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে হাঁটতে থাকা সর্বহারাদের বন্ধ চোখকে এমন আলো দিয়ে স্পর্শ করেছে যেটা তাদেরকে অন্তত জেগে উঠবার স্বপ্ন দেখায়।  

* স্যাটারনালিয়া: প্রাচীন রোমে কৃষির দেবতা স্যাটার্ন দেবতার সম্মানে হওয়া উৎসব ।  এই উৎসবে অন্য সময়ের জন্য নিষিদ্ধ এবং অনৈতিক ভাবে গৃহীত আচরণ অনুমোদিত বলে গৃহীত হয়। এখানে কমিউন দমন করে পুনঃপ্রতিপ্রতিষ্ঠিত কর্তৃত্বের ( ফ্রান্সের জাতীয় সরকার ) ও তাদের সেনাবাহিনীর  নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠা এবং পরবর্তীতেও নির্বিচারে নির্যাতন চালানো বুঝিয়েছে। 

* লাতিন ইউরোপ: লাতিন ইউরোপ বলতে ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, পর্তুগাল এবং রোমানিয়াকে বুঝানো হয় । এসব জাতির সংস্কৃতি রোমান জাতক।

খন্দকার তুর আজাদ